সৌদি আরবে খনিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। রিয়াদের দাবি অনুযায়ী, দেশটিতে আড়াই ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের খনিজ সম্পদ মজুদ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ মজুদ বিরল খনিজের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবকে একটি প্রধান শক্তিতে পরিণত করতে পারে। খবর সিএনএন।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও উন্নত সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য বিরল খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এ খাতের বাজার মূলত চীনের নিয়ন্ত্রণে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মোট পরিশোধিত বিরল খনিজের ৯০ শতাংশের বেশি এবং খনি উত্তোলনের ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন।
লন্ডনভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা সেফের মিনারেলস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক আবিগেল হান্টার জানান, কৌশলগত বিনিয়োগ ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে চীন এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে রয়েছে। তবে সৌদি আরব এখন জ্বালানি তেলের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা কমাতে নিজেদের খনিজ সম্পদ খাতের পরিধি বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশটি বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সৌদি আরবের দাবি করা এ মজুদে স্বর্ণ, দস্তা, তামা ও লিথিয়ামের পাশাপাশি ডিসপ্রোসিয়াম, টার্বিয়াম ও নিওডিয়ামিয়ামের মতো মূল্যবান বিরল খনিজ ধাতু রয়েছে। এসব খনিজ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) থেকে শুরু করে উইন্ড টারবাইন এবং উচ্চগতির কম্পিউটার তৈরিতে ব্যবহার হয়।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২৫ সালের মধ্যে সৌদি আরবের খনিজ অনুসন্ধান বাজেট ৫৯৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও খনি থেকে সম্পদ উত্তোলনে অগ্রসর দেশ কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় এটি এখনো সামান্য। তবে দেশটি এখন দেশী-বিদেশী কোম্পানিগুলোকে খনির লাইসেন্স দেয়ার গতি বাড়িয়েছে।
সেফের আবিগেল হান্টার বলেন, ‘খনি উত্তোলন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। একটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করতে তিন-পাঁচ বছর সময় লাগে। কোনো ক্ষেত্রে এটি সম্পন্ন হতে ২৯ বছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে। তবে সৌদি আরব এ খাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কর কমিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।’
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মাদেন জানিয়েছে, দেশটি আগামী এক দশকে ধাতু ও খনিজ সম্পদ খাতে ১১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। মাদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব উইল্ট বলেন, ‘রিয়াদ একা এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে।’